সৃজনশীল (CQ)
১. জমির উদ্দিন একজন কৃষক। সারাদিন তিনি মাঠেই কাজ করেন। নামাযের সময় হলে খেতের পাশে কাপড় বিছিয়ে নামায আদায় করেন। জুমার দিন তিনি মসজিদে না গিয়ে যোহরের সালাত আদায় করেন। তার প্রতিবেশী জহির উদ্দিন তাকে বললেন জুমার নামায আদায় করার জন্য শরিয়তের কিছু বিধান রয়েছে। আজান হয়ে গেছে। আমি মসজিদে যাচ্ছি। তুমিও আমার সাথে চলো। তখন জমির উদ্দিন বলেন, মসজিদ অনেক দূরে। কাজের ক্ষতি হবে বলেই খেতের পাশে যোহর নামায আদায় করছি।
- ক) 'ইবাদত' কী?১
- খ) মুসাফির বলতে কী বোঝায়?২
- গ) জুমার নামাযের ব্যাপারে জমির উদ্দিনের মনোভাবে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) জুমার নামায বিষয়ে জহির উদ্দিনের বক্তব্যের যৌক্তিকতা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় জীবনের সব ক্ষেত্রে তার দাসত্ব বা আনুগত্য করাকে ইবাদত বলে।
খ) মুসাফির (আরবি: مُسَافِر) বলতে ভ্রমণকারী বা যাত্রী বোঝায়। ইসলামী পরিভাষায়, মুসাফির হলো সে ব্যক্তি যিনি নির্দিষ্ট কোনো স্থানে বা গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে একস্থান থেকে অন্য স্থানে যাত্রা করেন। শরিয়তে সাধারণত নিজ বাসস্থান থেকে অন্তত ৪৮ মাইল (প্রায় ৭৮ কিলোমিটার) দূরত্বে সফরের নিয়তে যিনি বের হন, তাকে মুসাফির বলা হয়।
গ) জুমার নামাযের ব্যাপারে জমির উদ্দিনের মনোভাব থেকে তার শরিয়তের প্রতি অবহেলা ও অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে, যা 'ফিসক'- এর শামিল।
ইসলামে জুমার নামায প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকীম (স্থায়ী বাসিন্দা) মুসলমান পুরুষদের জন্য ফরজ। কুরআনে বলা হয়েছে, "হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে নামাযের আহ্বান করা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর।" (সূরা জুমা: ৯)। এই নির্দেশ আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট ফরজ আদেশ।
জমির উদ্দিন জানেন আজান দেওয়া হয়েছে, জানেন জুমার নামায ফরজ, তবু তিনি কাজের ক্ষতির অজুহাতে তা পরিহার করে যোহরের সালাত আদায় করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, তিনি শরিয়তের ফরজ বিধানকে অবহেলা করছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তা পরিত্যাগ করছেন। ইসলামি পরিভাষায় এ ধরনের আচরণকে বলা হয় 'ফিসক', অর্থাৎ আল্লাহর ফরজ আদেশকে জেনে শুনে অমান্য করা ও গাফেল থাকা।
সুতরাং, জমির উদ্দিনের এই মনোভাব ইসলামের দৃষ্টিতে মারাত্মক গোনাহের পর্যায়ে পড়ে, এবং তার জুমার সালাত পরিত্যাগ করাকে 'ফিসক' হিসেবে গণ্য করা যায়। এ থেকে তাওবা করে ফরজ আদায়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক।
ঘ) জহির উদ্দিনের বক্তব্য পুরোপুরি শরিয়তসম্মত ও যুক্তিসঙ্গত। তিনি জমির উদ্দিনকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, জুমার নামায আদায়ের জন্য শরিয়তে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে, এবং আজান হয়ে যাওয়ার পর মসজিদে গিয়ে জামাতে নামায আদায় করাই একজন মুমিন মুসলমানের জন্য ফরজ।
ইসলামের দৃষ্টিতে জুমার নামায একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:
'হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিনে নামাযের আহ্বান করা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর।
এটা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।'—(সূরা জুমা: ৯) জহির উদ্দিন সেই কুরআনি নির্দেশনার আলোকে জমির উদ্দিনকে নামাযের জন্য ডাক দিয়েছেন এবং তাঁর অজুহাত (মসজিদ দূরে, কাজের ক্ষতি হবে) অগ্রাহ্য করে আল্লাহর ফরজ আদেশ পালনের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন। এটি একজন সচেতন, ঈমানদার মুসলমানের কর্তব্য—অন্য ভাইকে সঠিক পথে ডাকা।
এ থেকে বোঝা যায়, জহির উদ্দিনের বক্তব্য কেবল ধর্মীয় দিক থেকেই নয়, বরং সামাজিকভাবে একজন দায়িত্ববান মুসলমানের ভূমিকাও তুলে ধরে। তিনি যেমন আল্লাহর হুকুম মানার বিষয়ে সচেতন, তেমনি অন্যকে সেই পথে উৎসাহিত করার মাধ্যমেও একটি নৈতিক ও ঈমানদার সমাজ গঠনের চেষ্টায় নিয়োজিত।
অতএব, জহির উদ্দিনের বক্তব্য যুক্তিপূর্ণ, ধর্মসম্মত ও সমাজকল্যাণমুখী।