সৃজনশীল (CQ)
১. রাসেল ছোটবেলা হতে শ্বসনতন্ত্রের একটি বিশেষ রোগে ভুগছে। যা ছোঁয়াচে বা জীবাণুবাহিত নয়। বছরের বিশেষ ঋতুতে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় রোগটি বেড়ে যায়। [বাংলাদেশ মহিলা সমিতি, চট্টগ্রাম]
- ক) যক্ষ্মা রোগের টিকার নাম কী?১
- খ) মধ্যচ্ছদা কীভাবে শ্বসন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে?২
- গ) রাসেলের রোগটির লক্ষণসমূহ উল্লেখ কর।৩
- ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) যক্ষ্মা রোগের টিকার নাম বি.সি.জি।
খ) যে মাংসপেশি বক্ষগহ্বর ও উদর গহ্বরকে পৃথক করে রেখেছে তাকে মধ্যচ্ছদা বলে।
মধ্যচ্ছদা দেখতে অনেকটা প্রসারিত ছাতার মতো। মধ্যচ্ছদা সংকুচিত হলে চ্যাপ্টা হয়ে নিচের দিকে নামে। তখন বক্ষগহ্বরের আয়তন বাড়ে এবং বাইরের বায়ু ফুসফুসে ঢোকে (প্রশ্বাস)। আবার এটা যখন শিথিল হয় তখন উপরের দিকে ওঠে এবং বক্ষগহ্বরের আয়তন কমে, ফলে ফুসফুস থেকে বায়ু বেরিয়ে যায় (নিঃশ্বাস)। মধ্যচ্ছদা সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে প্রশ্বাস ও নিঃশ্বাস কাজ সম্পাদন করে।
গ) রাসেলের উল্লিখিত রোগটি হলো হাঁপানি বা অ্যাজমা। রাসেলের রোগটির লক্ষণসমূহ হলো- ১. হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। শ্বাসকষ্টে দম বন্ধ হওয়ার মতো হয়।
২. ফুসফুসের বায়ুথলিতে ঠিকমতো অক্সিজেন সরবরাহ হয় না বা বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে রোগীর কষ্ট হয়।
৩. শ্বাস নেওয়ার সময় রোগীর পাঁজরের মাঝের চামড়া ভেতরের দিকে ঢুকে যায়।
ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত রোগটি থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় নিম্নরূপ :
আলো-বাতাসপূর্ণ গৃহে বসবাস করা। যেসব জিনিসের সংস্পর্শে এলে বা খেলে হাঁপানি বাড়ে, তা থেকে বিরত থাকা। যেমন- পশমি কাপড়। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলা। ধোঁয়া, ধুলাবালি ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা। ধূমপান পরিহার করা। ঔষধ সেবনে শ্বাসকষ্টের কিছুটা লাঘব হয় বটে কিন্তু রোগ পুরোপুরি ভালো হয় না। তাই শ্বাসকষ্ট লাঘবের ঔষধ সবসময় রোগীর সাথে রাখা অত্যন্ত জরুরি।