HSC · জীববিজ্ঞান (১ম ও ২য় পত্র) · ২য় পত্র, অধ্যায় ৩: মানব শারীরতত্ত্ব: পরিপাক ও শোষণ
শ্বেতসারের ওপর লালার অ্যামাইলেজ এনজাইমের ক্রিয়া পরীক্ষা
🎯 উদ্দেশ্য
শ্বেতসার দ্রবণে লালা মিশিয়ে আয়োডিন পরীক্ষায় দেখানো যে অ্যামাইলেজ শ্বেতসারকে মলটোজে ভাঙে এবং ফোটানো লালা কাজ করে না।
📖 তত্ত্ব ও সূত্র
লালায় থাকা টায়ালিন (স্যালিভারি অ্যামাইলেজ) মৃদু ক্ষারীয়-নিরপেক্ষ মাধ্যমে এবং দেহের তাপমাত্রায় (37°C) শ্বেতসারকে মলটোজে পরিণত করে। এনজাইম প্রোটিন, তাই ফোটালে নষ্ট (বিকৃত) হয়।
- শ্বেতসার + পানি → (স্যালিভারি অ্যামাইলেজ, 37°C) → মলটোজ
🧰 প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ
- 1% শ্বেতসার দ্রবণ
- লালা (মুখ পানি দিয়ে কুলি করে সংগ্রহ, পাতলা করা)
- টেস্টটিউব ৩টি
- ওয়াটার বাথ (37°C)
- আয়োডিন দ্রবণ
- সাদা টাইলস (খাঁজকাটা)
- বেনেডিক্ট দ্রবণ
- ড্রপার ও স্টপওয়াচ
🧪 কার্যপদ্ধতি: ধাপে ধাপে
- ১ টিউব A: 5 mL শ্বেতসার + 1 mL লালা; টিউব B: 5 mL শ্বেতসার + 1 mL ফোটানো লালা; টিউব C: 5 mL শ্বেতসার + 1 mL পানি (নিয়ন্ত্রণ)।
- ২ তিনটি টিউব 37°C ওয়াটার বাথে রাখো।
- ৩ প্রতি ২ মিনিট পরপর প্রতিটি টিউব থেকে এক ফোঁটা নিয়ে টাইলসের খাঁজে আয়োডিনের ফোঁটার সাথে মেশাও।
- ৪ যতক্ষণ না A টিউবের নমুনা আর নীল হয় না (আয়োডিনের হলদে-বাদামি থাকে), সময় লেখো।
- ৫ শেষে A টিউবে বেনেডিক্ট দিয়ে ফোটাও এবং রং দেখো।
⚠️ সতর্কতা
- প্রতিবার পরিষ্কার ড্রপার ব্যবহার করবে।
- ওয়াটার বাথের তাপমাত্রা 37°C রাখবে।
- লালা সংগ্রহের আগে মুখ পরিষ্কার পানি দিয়ে কুলি করবে।
- প্রত্যেকে নিজের লালাই ব্যবহার করবে।
📝 খাতায় যেভাবে লিখবে
নিচের ছক ও হিসাব নমুনা পাঠ দিয়ে করা। নিজের পরীক্ষণে যে পাঠ পাবে সেটাই লিখবে, হিসাবের ধাপ একই থাকবে।
📊 পর্যবেক্ষণ ও উপাত্ত ছক
আয়োডিন পরীক্ষার ফল
| সময় (মিনিট) | A (লালা) | B (ফোটানো লালা) | C (পানি) |
|---|---|---|---|
| 0 | নীল-কালো | নীল-কালো | নীল-কালো |
| 2 | নীল | নীল-কালো | নীল-কালো |
| 4 | বেগুনি-বাদামি | নীল-কালো | নীল-কালো |
| 6 | হলদে-বাদামি (নীল নেই) | নীল-কালো | নীল-কালো |
🧮 হিসাব
- A টিউবে প্রায় ৬ মিনিটে শ্বেতসার সম্পূর্ণ ভেঙেছে (অ্যাক্রোমিক বিন্দু)।
- A টিউবে বেনেডিক্ট পরীক্ষায় ইটের মতো লাল অধঃক্ষেপ: মলটোজ (বিজারক শর্করা) তৈরি হয়েছে।
✅ ফলাফল
লালার অ্যামাইলেজ 37°C-এ শ্বেতসারকে মলটোজে ভাঙে; ফোটানো লালায় এনজাইম বিকৃত হওয়ায় শ্বেতসার ভাঙেনি।
✍️ খাতা লেখার ক্রম
- প্রতিটি পরীক্ষণ নতুন পাতায় শুরু করো: ওপরে পরীক্ষণ নং, তারিখ আর পরীক্ষণের নাম।
- ক্রম: পরীক্ষণের নাম → তত্ত্ব ও সূত্র → যন্ত্রপাতি → কার্যপদ্ধতি → পর্যবেক্ষণ ও উপাত্ত ছক → হিসাব → ফলাফল → সতর্কতা।
- ডান পাতায় লেখা, বাম পাতায় পেন্সিলে চিহ্নিত চিত্র আর ছক (অনেক প্রতিষ্ঠানে এভাবেই চায়)।
- ছকের প্রতিটি কলামে একক লেখো, যেমন cm, s, mL।
- ফলাফল এক লাইনে, এককসহ, বক্স করে লেখো।
🎤 ভাইভায় যা জিজ্ঞেস করে
প্রশ্ন শুনে আগে মুখে উত্তর দাও, তারপর উত্তর মিলিয়ে নাও। মক টেস্টে প্রশ্ন পড়ে শোনানো হবে, তুমি বলবে, তোমার কথা লেখা হয়ে উত্তরের সাথে মেলানো হবে।
-
১
এনজাইম কাকে বলে?
উত্তর দেখো
জীবকোষে তৈরি প্রোটিনধর্মী জৈব প্রভাবক, যা নিজে অপরিবর্তিত থেকে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার হার বাড়ায়।
-
২
লালার এনজাইমের নাম কী?
উত্তর দেখো
টায়ালিন বা স্যালিভারি অ্যামাইলেজ।
-
৩
ফোটানো লালা কাজ করে না কেন?
উত্তর দেখো
উচ্চ তাপে এনজাইম প্রোটিনের গঠন নষ্ট (বিকৃত) হয়, তাই সক্রিয় স্থান কাজ করে না।
-
৪
অ্যাক্রোমিক বিন্দু কী?
উত্তর দেখো
যে সময়ে শ্বেতসার সম্পূর্ণ ভেঙে যায় এবং আয়োডিনে আর নীল রং দেয় না।
-
৫
অ্যামাইলেজের উপযুক্ত pH ও তাপমাত্রা কত?
উত্তর দেখো
pH প্রায় 6.8 এবং তাপমাত্রা প্রায় 37°C।
-
৬
নিয়ন্ত্রণ টিউব কেন রাখা হয়?
উত্তর দেখো
প্রমাণ করতে যে পরিবর্তন লালার এনজাইমের জন্যই হয়েছে, অন্য কোনো কারণে নয়।
✅ নিজেকে যাচাই করো
উত্তর চাপলেই ঠিক-ভুল আর ব্যাখ্যা দেখাবে। 🎤 চেপে মুখে "ক", "খ" বলেও উত্তর দেওয়া যায়।
১. লালার এনজাইম শ্বেতসারকে ভাঙে—
২. ফোটানো লালার টিউবে আয়োডিনে রং—
৩. এনজাইম রাসায়নিকভাবে—
লগইন করো বা ফ্রি অ্যাকাউন্ট খোলো, তাহলে কুইজের ফল আর কয়েন তোমার অ্যাকাউন্টে জমা থাকবে।
ক্লাসের বন্ধুদের পাঠাও
শেষ যাচাই: ৬ নভেম্বর ২০২৬। বইয়ের সাথে না মিললে "⚑ ভুল রিপোর্ট" চাপো; যাচাই করে ঠিক করা হবে।