ক) লবণ একটি নিরপেক্ষ পদার্থ, যা এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।
খ) মিল্ক অফ লাইম বলতে পানি ও ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তৈরি এক প্রকারের পেস্টকে বোঝায়। চুনের সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি মিশিয়ে এটি তৈরি করা হয়। বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ :
CaO + H₂O → Ca(OH)₂
এটি ক্ষারক জাতীয় পদার্থ।
গ) ডাক্তার এন্টাসিড জাতীয় ঔষধ খাওয়ার পরামর্শ দিলেন।
পাকস্থলীতে তৈলাক্ত জাতীয় খাবার অনেক সময় আংশিক হজম হয়। তখন কতগুলো এনজাইম এসিডের মাধ্যমে সক্রিয় হয়। এতে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয়। বেশি এসিড নিঃসৃত হলে এন্টাসিড জাতীয় ক্ষারক গ্রহণে এসিড ও ক্ষারক পরস্পরকে প্রশমিত করে এবং আরাম অনুভূত হয়। সাধারণত ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Mg(OH)₂], অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Al(OH)₃], ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Ca(OH)₂] ইত্যাদি ক্ষারকসমূহ এন্টাসিড রূপে ব্যবহৃত হয়। এসব ক্ষারীয় পদার্থ দ্বারা HCl প্রশমিত হয় এবং পেটের ব্যথা ভালো হয়ে যায়।
ফারাহর পাকস্থলীতে এসিডিটি হওয়ায় তার পেটে প্রায়ই ব্যথা হয়। এ জন্য ডাক্তার ফারাহকে এন্টাসিড জাতীয় ক্ষারক খাওয়ার পরামর্শ দিলেন।
ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত এসিডিটি তৈরি হওয়ার উপাদানটি হলো হাইড্রোক্লোরিক এসিড। এটি একটি এসিড জাতীয় যৌগ। মানুষের পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন হয়। পেটে হাইড্রোক্লোরিক এসিড অধিক উৎপন্ন হলে এসিডিটি তৈরি হয়।
এটি যে একটি এসিড তা আমরা নিচের যুক্তির সাহায্যে প্রমাণ করতে পারি :
১. হাইড্রোক্লোরিক এসিড টক স্বাদযুক্ত।
২. হাইড্রোক্লোরিক এসিডের জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) উৎপন্ন হয় বলে এ দ্রবণ নীল লিটমাসকে লাল করে।
HCl = H⁺ + Cl−
H⁺ + নীল লিটমাস = লাল লিটমাস
৩. হাইড্রোক্লোরিক এসিড ক্ষারক যেমন সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
HCl + NaOH = NaCl + H₂O
(এসিড) (ক্ষারক) (লবণ) (পানি)
৪. হাইড্রোক্লোরিক এসিড ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে। যেমন-
Zn + 2HCl = ZnCl₂ + H₂
উপরিউক্ত যুক্তিসমূহ বিশ্লেষণ করে এটা সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত এসিডিটি তৈরি হওয়ার উপাদান হাইড্রোক্লোরিক এসিড একটি অম্লীয় বা এসিডীয় যৌগ।