ক) এক স্বচ্ছ মাধ্যম থেকে অন্য স্বচ্ছ মাধ্যমে প্রবেশ করে আলোকরশ্মির গতিপথের দিক পরিবর্তনই আলোর প্রতিসরণ।
খ) আলোকরশ্মির দিক পরিবর্তনের কারণ হলো মাধ্যমের ঘনত্বের পার্থক্য।
সমসত্ত্ব ও স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আলোক সরলরেখায় চলে। কিন্তু কোনো আলোক রশ্মিগুচ্ছ যখন তির্যকভাবে এক মাধ্যমের মধ্য দিয়ে চলতে চলতে অন্য একটি মাধ্যমে আপতিত হয়, তখনই আলোকরশ্মি দিক পরিবর্তন করে। আলোর প্রতিসরণের জন্য এরূপ ঘটে। অর্থাৎ মাধ্যমদ্বয়ের ঘনত্বের পার্থক্যের জন্য আলোকরশ্মির দিক পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে।
গ) পুকুরে আনিসের পড়ে যাওয়ার কারণ পানির নিচে আলোর প্রতিসরণ বা ভিন্ন মাধ্যমে আলোর দিক পরিবর্তন।
কোনো আলোকরশ্মি যখন হালকা মাধ্যম থেকে ঘন মাধ্যমে (যেমন বায়ু থেকে পানিতে) প্রবেশ করে, তখন প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্বের দিকে সরে যায়। অর্থাৎ আলোর গতির দিক পরিবর্তন হয়। ফলে পানির নিচে কোনো বস্তুকে যেখানে দেখা যায়, প্রকৃতপক্ষে বস্তুটি থাকে তার চেয়ে একটু নিচে। ফলে দেখার ও বোঝার ভুল হয়।

আনিসের ক্ষেত্রেও এমন ঘটনাই ঘটেছে। সে বায়ু মাধ্যম থেকে পানি মাধ্যমে সিঁড়ি দেখছে। ফলে সিঁড়িটির প্রকৃত অবস্থান বুঝতে সে ভুল করে। যেখানে সে সিঁড়িটি দেখতে পেয়ে পা ফেলে, আসলে সিঁড়ি সেখানে নেই। আছে একটু নিচে। ফলে আনিসের পা পিছলে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যায়।
অতএব, পুকুরে আনিসের পড়ে যাওয়ার কারণ হলো পানির নিচে আলোর দিক পরিবর্তন।
ঘ) মাছের অবস্থানের একটু নিচে সড়কি চালালে আনিসের ছোট ভাইয়ের মাছ শিকার করা সম্ভব হতো।
কোনো আলোকরশ্মি যখন ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে (যেমন : পানি থেকে বায়ুতে) প্রবেশ করে তখন প্রতিসৃত রশ্মি অভিলম্ব থেকে দূরে সরে যায়। এ কারণে ঘন মাধ্যম পানি থেকে লঘু মাধ্যম বায়ুতে আলোকরশ্মির প্রতিসরণের ফলে পানির মধ্যে থাকা মাছকে এর সঠিক অবস্থান থেকে কিছুটা উপরে ওঠা অবস্থায় দেখা যায়। এজন্য পানির উপর থেকে মাছকে লক্ষ করে সড়কি নিক্ষেপ করা হলে, মাছকে সড়কিবিদ্ধ করা যায় না।

প্রকৃতপক্ষে মাছ থাকে আরেকটু দূরে এবং গভীরে। আনিসের ছোট ভাইয়ের মাছ শিকারের লক্ষ্যে সড়কি নিক্ষেপ করতে হতো আরও নিচে ও গভীরে। এ কৌশল অবলম্বন করলে আনিসের ছোট ভাইয়ের মাছ শিকার করা সম্ভব হতো।