ক) লাইনগুলোর মাঝখানে ফাঁকা জায়গাকে বলা হয় লিডিং।
খ) লেখা একটি প্রকাশ মাধ্যম, শব্দ একটি প্রকাশ মাধ্যম আবার চিত্রও একটি প্রকাশ মাধ্যম। আমরা যখন অনেকগুলো প্রকাশ মাধ্যমকে নিয়ে কথা বলি তখনই মাল্টিমিডিয়া বলে তাকে চিহ্নিত করে থাকি।
সভ্যতার বিবর্তন ও প্রযুক্তির কারণে এর মাধ্যমগুলোর বহুবিধ ব্যবহার হয়ে আসছে। এক সময় যেসব মিডিয়া ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যবহৃত হতো তা এখন একসাথে ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার, সেইসব মিডিয়ায় যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল যন্ত্রের প্রোগ্রামিং করার ক্ষমতা। আমরা এখন বহুমিডিয়াকে তার বহুমাত্রিক ও প্রোগ্রামিং ক্ষমতার জন্য বলছি ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া।
গ) উদ্দীপকের মাল্টিমিডিয়া সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। মাল্টিমিডিয়া মানে হচ্ছে বহু মাধ্যম। আমরা যখন অনেকগুলো প্রকাশ মাধ্যম নিয়ে কথা বলি তখন তাকে মাল্টিমিডিয়া বলে চিহ্নিত করা হয়। ডিজিটাল যন্ত্রের সাথে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কারণ বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল যন্ত্র কম্পিউটার গণনাযন্ত্র হিসাব নিকাশ করার যন্ত্র হিসেবে বেশি পরিচিত। তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও পারাপার কম্পিউটারের আরও একটি গরুত্বপূর্ণ কাজ। এরপর লেখালেখি করার জন্য এই যন্ত্রটির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিন্তু এতসব কাজ করার জন্য শুরুতে কম্পিউটারের একটি মাত্র মিডিয়া যথা-বর্ণ ব্যবহার করতে হতো। কিন্তু কালক্রমে কম্পিউটারে চিত্র এবং শব্দ সমন্বিত হয়। তাছাড়া কম্পিউটারে মাল্টিমিডিয়া মানে হলো বর্ণ, চিত্র ও শব্দের সবন্বয়ে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ অভিজ্ঞতা। অতীতের চেয়ে এখনকার মাল্টিমিডিয়ার অভিজ্ঞতা অনেক সমৃদ্ধ। যন্ত্র হিসাবেও মাল্টিমিডিয়ার বাহন হিসেবে এখন কেবল ইলেকট্রনিক বা কম্পিউটার ব্যবহৃত হয় না। পাশাপাশি আমাদের হাতের কাছের মোবাইল ফোন, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও অন্যান্য ডিজিটাল যন্ত্র এখন মাল্টিমিডিয়া ধারণা ও পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়।
ঘ) উদ্দীপকের আলোচিত মিডিয়াটি হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া। বর্তমান যুগে এই মিডিয়াটির সারা বিশ্বেই ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই আতিক ভবিষ্যতে এই ক্ষেত্রটিতেই নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চায়। নিচে মাল্টিমিডিয়া প্রয়োগ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
১. বর্ণ বা টেক্সট : সারা দুনিয়াতেই টেক্সটের যাবতীয় কাজ এখন কম্পউটারে হয়ে থাকে। একসময় টাইপরাইটার ও ফটোটাইপসেটার দিয়ে যেসব কাজ করা হতো এখন এর সবকিছুই কম্পিউটার ব্যবহার করে করা হচ্ছে। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে পেশাদারি মুদ্রণ ও প্রকাশনায় কম্পিউটারের ব্যবহার নিরঙ্কুশ।
২. চিত্র বা গ্রাফিক্স : দুনিয়ার সবর্ত্রই গ্রাফিক্স তৈরি, সম্পাদনা ইত্যাদি যাবতীয় কাজ কম্পিউটার ব্যবহার করেই করা হয়। আমাদের দেশে গ্রাফিক্স ডিজাইন, পেইন্টিং, ড্রইং বা কমার্শিয়াল গ্রাফিক্স প্রভৃতিতে কম্পিউটারের ব্যবহার সীমিত হলেও মুদ্রণ ও প্রকাশনায় এর ব্যবহার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে।
৩. শব্দ ও অডিও : শব্দ ও অডিও রেকর্ড, সম্পাদনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে সারা দুনিয়া এখন কম্পিউটারের ওপর নির্ভর করে। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ এনালগ পদ্ধতি এখন কার্যত সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। তবে যে কেউ ইচ্ছে করলেই একটি ভালো কম্পিউটার দিয়ে উন্নত মানের সাউন্ড, রেকর্ডিং করতে পারেন।
৪. মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার : বাংলাদেশে মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার প্রস্তুত হওয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ-৭১, অবসর, বিশ্বকোষ, নামাজ শিক্ষা, বিজয় শিশু শিক্ষা এমন কয়েকটি সিডিতে মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে একুশ শতকে এদেশে ব্যাপকভাবে মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার তৈরি হবে।
৫. ডিজিটাল প্রকাশনা : আমাদের প্রকাশনা এখনও কাগজনির্ভর। তবে একুশ শতকে অবশ্যই ডিজিটাল প্রকাশনার শতক হবে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ অতি দ্রুত প্রযুক্তি গ্রহণ করে থাকে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে মাল্টিমিডিয়ার প্রয়োগ আশাব্যঞ্জক না হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বপর্যায়ের।