ক) কোনো মসৃণ প্রতিফলক পৃষ্ঠ যদি সমতল হয় এবং তাতে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে তবে তাকে সমতল দর্পণ বলে।
খ) ধাতুর প্রলেপ লাগানোর ফলে কাঁচ অস্বচ্ছ প্রতিফলক হিসেবে কাজ করে বলে দর্পণের পিছনে ধাতুর প্রলেপ লাগানো হয়।
কাচের এক পৃষ্ঠে ধাতুর প্রলেপ লাগিয়ে দর্পণ তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে 'পারা লাগানো' বা সিলভারিং বলা হয়। ধাতুর প্রলেপ লাগানো পৃষ্ঠের বিপরীত পৃষ্ঠটি এক্ষেত্রে প্রতিফলক পৃষ্ঠ হিসেবে কাজ করে। এক্ষেত্রে প্রতিফলক পৃষ্ঠে আলোকরশ্মি নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে।
গ) 
সমতল দর্পণের সামনে অবস্থিত PQ একটি লক্ষ্যবস্তু। P হতে PT রশ্মি অভিলম্বভাবে দর্পণে আপতিত হয় এবং TP পথে প্রতিফলিত হয়। PS রশ্মি তির্যকভাবে দর্পণে আপতিত হয় এবং SO পথে প্রতিফলিত হয়। প্রতিফলিত রশ্মিদ্বয় দর্পণের পিছনের দিকে বর্ধিত করলে P¹ বিন্দুতে মিলিত হয়। সুতরাং P¹ হলো P বিন্দুর অবাস্তব প্রতিবিম্ব। P¹Q¹ যোগ করলে P¹Q¹-ই হবে PQ-এর অবাস্তব প্রতিবিম্ব, যা দর্পণের পেছনে Q¹ (1m) দূরে অবস্থিত। এখানে, দর্পণ হতে বস্তুর দূরত্ব ও প্রতিবিম্বের দূরত্ব সমান। অর্থাৎ, লক্ষ্যবস্তু PQ দর্পণের যত সামনে অবস্থিত, প্রতিবিম্ব P¹Q¹ দর্পণের ঠিক ততটা পিছনে গঠিত হয়।
ঘ) উদ্দীপকের ১নং দর্পণটি সমতল এবং ২নং দর্পণটি অবতল।
প্রতিবিম্ব গঠনের ক্ষেত্রে ১ এবং ২ নম্বরের দর্পণের তুলনা নিম্নরূপ :
১. ১নং দর্পণে সর্বদা অবাস্তব বিম্ব গঠিত হয় যেখানে ২নং দর্পণে ক্ষেত্রবিশেষে বাস্তব বা অবাস্তব বিম্ব গঠিত হয়।
২. ১নং দর্পণে গঠিত প্রতিবিম্ব সর্বদা লক্ষ্যবস্তুর সমান আকারে হয়। কিন্তু ২নং দর্পণে গঠিত বিম্ব ক্ষেত্রবিশেষে বিবর্ধিত খর্বিত বা লক্ষ্যবস্তুর সমান হতে পারে।
৩. ১নং দর্পণের ক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তু দর্পণ থেকে যতটা দূরে থাকে প্রতিবিম্ব দর্পণের ততটা পেছনে গঠিত হয়। কিন্তু ২নং দর্পণে প্রতিবিম্বের অবস্থান নির্ভর করে প্রধান ফোকাস সাপেক্ষে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থানের উপর।
৪. ১নং দর্পণে বিম্বের পার্শ্ব পরিবর্তন হয়, কিন্তু ২নং দর্পণে এমন কিছু ঘটে না।
৫. ১নং দর্পণ দ্বারা সৃষ্ট বিম্ব কখনোই পর্দায় ফেলা যায় না; কিন্তু ২নং দ্বারা গঠিত বিম্বটি পর্দায় ফেলা যায়।