ক) দুটি গোলীয় পৃষ্ঠ দ্বারা সীমাবদ্ধ কোনো স্বচ্ছ প্রতিসারক মাধ্যমকে লেন্স বলে।
খ) স্পর্শ না করে লেন্স শনাক্ত করার জন্য লেন্সের সামনে খুব কাছাকাছি একটি আঙুল রেখে অপরদিক থেকে দেখলে যদি আঙুলের সোজা ও বিবর্ধিত বিম্ব গঠিত হয় সেই লেন্স উত্তল আর যদি সোজা কিন্তু খর্বিত প্রতিবিম্ব গঠিত হয় তাহলে সেই লেন্স অবতল।
গ) দেওয়া আছে,
লেন্সের ক্ষমতা, P = − 2 D
ফোকাস দূরত্ব, f = ?
আমরা জানি,
P = 1/f
বা, f = 1/P m
= 1/(-2) m
= -0·5 m
যেহেতু ফোকাস দূরত্ব ঋণাত্মক যেহেতু লেন্সটি অবতল।
∴ শিউলীর লেন্সের ফোকাস দূরত্ব - 0·5 m।
ঘ) শিউলী শ্রেণিকক্ষে ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা ভালোভাবে দেখতে পায় না। অর্থাৎ সে দূরের বস্তু বা জিনিস স্পষ্ট দেখতে পায় না। সুতরাং তার চোখের যে ত্রুটি তা হলো হ্রস্ব দৃষ্টি। অক্ষিগোলকের ব্যাসার্ধ বেড়ে গেলে বা চোখের লেন্সের ফোকাস দূরত্ব কমে গেলে অর্থাৎ, অভিসারী ক্ষমতা বেড়ে গেলে এই ত্রুটি দেখা দেয়।

যেহেতু অভিসারী ক্ষমতা বেড়ে গেলে এ ত্রুটি হয়, তাই অভিসারী ক্ষমতা কমানোর জন্য তথা ত্রুটি প্রতিকারে সহায়ক লেন্স হিসেবে ঋণাত্মক ক্ষমতার লেন্স বা অবতল লেন্স ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া একমাত্র অবতল লেন্সই লক্ষ্যবস্তুর চেয়েও নিকটে সোজা ও অবাস্তব প্রতিবিম্ব গঠন করে বলে এক্ষেত্রে চোখের লেন্সের সামনে সহায়ক লেন্স বা চশমা হিসেবে অবতল লেন্স ব্যবহার করতে হবে। এই লেন্সটির ক্ষমতা তথা ফোকাস দূরত্ব এমন হবে যা অসীম দূরত্বে অবস্থিত লক্ষ্যবস্তুর প্রতিবিম্ব ত্রুটিপূর্ণ চোখের দূরবিন্দুতে গঠন করে। সুতরাং ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তি এই লেন্সের চশমা ব্যবহার করলে সহজেই চোখের দূরবিন্দুতে দেখতে পাবে। তাই ডাক্তার শিউলীকে ঋণাত্মক ক্ষমতাবিশিষ্ট লেন্স ব্যবহার করতে পরামর্শ দেওয়ার যৌক্তিকতা যথার্থই ছিল।