ক) পদার্থ সৃষ্টিকারী মৌলিক কণাসমূহের যেমন ইলেকট্রন ও প্রোটনের মৌলিক ও বৈশিষ্ট্যমূলক ধর্মকে চার্জ বা আধান বলে।
খ) ঘর্ষণে ইলেকট্রন আদান-প্রদানের কারণে বস্তু আহিত হয়।
দুই বস্তুকে যখন পরস্পরের সংস্পর্শে আনা হয় বা ঘর্ষণ হয়, তখন যে বস্তুর ইলেকট্রন আসক্তি বেশি সেই বস্তু অপর বস্তুটি থেকে ইলেকট্রন সংগ্রহ করে ঋণাত্মক আধানে আহিত হয় এবং যে বস্তুটি ইলেকট্রন হারায় সেটি ধনাত্মক আধানে আহিত হয়। এ কারণেই ঘর্ষণে বস্তু আহিত হয়।
গ) চিরুনিটি আহিত হওয়ার কারণ চুলের সাথে ঘর্ষণের ফলে স্থির তড়িতের উদ্ভব হওয়া।
কোনো পরমাণুতে যতক্ষণ পর্যন্ত ইলেকট্রন ও প্রোটনের সংখ্যা সমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তা তড়িৎ নিরপেক্ষ থাকে। কিন্তু পরমাণুতে এদের সংখ্যা সমান না হলে পরমাণু তড়িৎগ্রস্ত হয় অর্থাৎ আহিত হয়। কোনো পরমাণুতে ইলেকট্রনের সংখ্যা কমে গেলে প্রোটনের আধিক্য দেখা দেয়। এ অবস্থাকে বলা হয় ধনাত্মক আধানে আহিত হওয়া। আবার এই বিচ্ছিন্ন ইলেকট্রন অপর কোনো পরমাণুর সাথে যুক্ত হলে সে পরমাণুতে প্রোটনের চেয়ে ইলেকট্রন সংখ্যা বেড়ে যায়, ফলে ঋণাত্মক আধানে আহিত হয়। পরমাণুতে ইলেকট্রনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে কম বা বেশি হওয়াকে আহিত হওয়া বলে।
রিমা যখন চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ায় তখন চিরুনি ও চুলের মধ্যে ঘর্ষণ হয়। ফলে ইলেকট্রন আদান প্রদান হয় এবং চিরুনির স্বাভাবিক ইলেকট্রন সংখ্যার পরিবর্তন হয়। অর্থাৎ চিরুনি আর তড়িৎ নিরপেক্ষ থাকে না। এ কারণেই চিরুনিটি আহিত হয়।
ঘ) যন্ত্রটির সাহায্যে তড়িৎ আবেশ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিরুনিটির আধানের প্রকৃতি নির্ণয় করা যাবে।
চিরুনিতে আধানের প্রকৃতি নির্ণয়ের জন্য আগে যন্ত্রটিকে ধনাত্মক কিংবা ঋণাত্মক আধানে আহিত করতে হবে। মনে করি যন্ত্রের চাকতির তথা পাতদ্বয়কে ধনাত্মক আধানে আহিত করা হলো। ফলে পাতদ্বয় ফাঁক হবে। এরপর চিরুনিটিকে স্বর্ণপাত তড়িৎবীক্ষণ যন্ত্রের চাকতির সংস্পর্শে আনতে হবে। যদি পাতদ্বয়ের ফাঁক কমে যায়, তাহলে বুঝতে হবে ওই চিরুনিটি ঋণাত্মক আধানে আহিত। যদি ফাঁক বেড়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে চিরুনি ধনাত্মক আধানে আহিত।
এভাবে যন্ত্রটির সাহায্যে চিরুনিটির আধানের প্রকৃতি নির্ণয় করা যাবে।