ক) ক্যালামাইনের রাসায়নিক সংকেত ZnCO₃।
খ) তাপজারণ হলো আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশনের একটি ধাপ।
ঘনীকৃত আকরিককে অক্সাইডে রূপান্তরের সময় যেসব পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় সেগুলোর মধ্যে তাপজারণ একটি। সাধারণত সালফাইড আকরিকের তাপজারণ করা হয়। সালফাইড আকরিককে বায়ু প্রবাহের উপস্থিতিতে গলনাঙ্ক তাপমাত্রার নিম্ন তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়। খনিজমল যেমন : সালফার, আর্সেনিক, ফসফরাস ইত্যাদি উদ্বায়ী অক্সাইডরূপে দূরীভূত হয়।
2ZnS (জিংক ব্লেন্ড) + 3O₂ ―→ —→ 2ZnO + 2SO₂
2PbS (গ্যালেনা) + 3O₂ ―→ —→ 2PbO + 2SO₂
গ) রিটর্টে সংঘটিত মূল বিক্রিয়াটি হলো কার্বন বিজারণ বিক্রিয়া।
রিটর্টের মধ্যে রাখা রাসায়নিক পদার্থসমূহ হচ্ছে জিঙ্ক অক্সাইড (ZnO) এবং কোক তথা কার্বন (C)।
রিটর্টের মধ্যে নিম্নরূপ বিক্রিয়া সংঘটিত হয় :
ZnO(s) + C(s) —→ Zn(s) + CO(g)
এই বিক্রিয়ায় কার্বন বিজারণ পদ্ধতিতে ধাতুর অক্সাইডের সাথে কোক যোগ করে বিজারণের মাধ্যমে ধাতুকে মুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ZnO কার্বন দ্বারা বিজারিত হয়ে Zn ধাতুর বাষ্প এবং কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন হয়। সুতরাং, রিটর্টে সংঘটিত মূল বিক্রিয়াটি হলো কার্বন বিজারণ বিক্রিয়া।
ঘ) Zn মধ্যম সক্রিয় ধাতু বলে কেবল তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ধাতু নিষ্কাশন না করে তিন ধাপে করা হয়।
উচ্চ সক্রিয় ধাতুসমূহকে তড়িৎ বিশ্লেষণ দ্বারা মুক্ত করা হয়। সক্রিয়তা সিরিজে K থেকে Al পর্যন্ত ধাতুগুলো অত্যন্ত সক্রিয় বলে এদের প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না এবং এদের তড়িৎ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মুক্ত করা হয়। অপরদিকে, Mn, Zn, Cr, Fe মধ্যম সক্রিয় ধাতু। এদের কার্বন বিজারণ পদ্ধতিতে মুক্ত করা হয়।
যেহেতু, Zn একটি মধ্যম সক্রিয় ধাতু, তাই নিম্নোক্ত তিন ধাপে Zn ধাতু নিষ্কাশন করা হয়।
i. ঘনীকৃত আকরিককে অক্সাইডে রূপান্তর
ii. ধাতব অক্সাইডকে মুক্ত ধাতুতে রূপান্তর
iii. ধাতু বিশোধন
বিক্রিয়াগুলো নিম্নরূপ-
2ZnS(s) + 3O₂(g) —→ 2ZnO(s) + 2SO₂(g) [তাপজারণ]
ZnO(s) + C(s) —→ Zn (s) + CO (g) [কার্বন বিজারণ]