সৃজনশীল (CQ)
১. পবিত্র কুরআন মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে শয়তান আমাদের প্রকাশ্য দুশমন। সে কুমন্ত্রণা দিয়ে আমাদেরকে বিপথগামী করে। শয়তান থেকে বাঁচতে কুরআন শরিফে কতিপয় সূরা আছে। সুতরাং এ সংক্রান্ত সূরা থেকে শিক্ষা নিয়ে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে।
- ক) আল কুরআনের সর্বশেষ সূরা কোনটি?১
- খ) শয়তান মানুষকে কীভাবে ধোঁকা দেয়?২
- গ) উদ্দীপকে কোন সূরার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন? ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) উদ্দীপকের সূরাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) আল কুরআনের সর্বশেষ সূরা হলো "সূরা আন-নাস"।
খ) শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন। সে গোপনে, প্রকাশ্যে, ঘুমন্ত অবস্থায়, জাগ্রত অবস্থায় সব সময় মানুষকে কুমন্ত্রণা দিয়ে থাকে। তার কাজই হলো কুমন্ত্রণা দিয়ে মানুষকে বিপথগামী করা। সে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা ঢেলে দেয়। এভাবেই শয়তান মানুষকে ধোঁকা দেয়।
গ) উদ্দীপকে সূরা নাসের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আমরা জানি, পবিত্র কুরআনের সর্বশেষ অর্থাৎ ১১৪তম সূরা হলো আন-নাস। কুরআনের অন্যান্য সূরায় মানুষকে সঠিক পথের সন্ধান দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শয়তান মানুষকে সঠিক পথ থেকে বিরত রাখতে চায়। তাই এ সূরায় আল্লাহ তায়ালার নিকট শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে এবং আল্লাহর তিনটি গুণের কথা উল্লেখ রয়েছে। এগুলো হলো রব, মালিক ও ইলাহ। এছাড়াও সূরাটির শেষে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকার জন্য মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই, শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন। সে বিভিন্নভাবে মানুষকে ধোঁকা দেয়। অর্থাৎ উদ্দীপকে সূরা নাসের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ) উদ্দীপকের সূরা নাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা, আল্লাহ তায়ালাই মানুষের রব, মালিক ও ইলাহ। তিনি ব্যতীত আর কেউ এ তিনটি গুণের অধিকারী নয়। শয়তান মানুষের প্রকাশ্য দুশমন। সে গোপনে, প্রকাশ্যে, ঘুমন্ত অবস্থায়, জাগ্রত অবস্থায় সবসময় মানুষকে কুমন্ত্রণা দিয়ে বিপথগামী করে। শয়তান শুধু জিনই নয়, বরং মানুষের মধ্যেও শয়তান রয়েছে, যারা মানুষকে দীন থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। এজন্য এ সূরায় শয়তানের সকল কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহ তা'য়ালার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং, নাস সূরা থেকে শিক্ষা নিয়ে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহ তা'য়ালার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। বস্তুত শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বাঁচার এবং আল্লাহর রহমত পাবার জন্য সূরা নাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।