সৃজনশীল (CQ)
১.
চিত্র: পৃথিবীর অভ্যন্তরের তিনটি মূলভাগ ও স্তর
চিত্র: পৃথিবীর অভ্যন্তরের তিনটি মূলভাগ ও স্তর- ক) ভূ-ত্বক কী?১
- খ) আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলতে কী বোঝায়?২
- গ) R অংশটির গঠন বর্ণনা কর।৩
- ঘ) P ও Q এর যে স্তরটি মাটি গঠন করে তা বিশ্লেষণ কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) শিলামণ্ডলের উপরের দিকের অংশই ভূ-ত্বক।
খ) শিলামণ্ডল বিভিন্ন প্লেট দ্বারা গঠিত। প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে প্রচুর তাপের সৃষ্টি হয়, যা ভূত্বকের পদার্থকে গলিয়ে দেয়। এই গলিত পদার্থেরই চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ছেদ করে বেরিয়ে আসাকে আগ্নেয়গিরি উদগীরণ বলে।
গ) R চিহ্নিত অংশটিকে পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডল বলা হয়। পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দু থেকে প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের গোলাকার জায়গা হলো কেন্দ্রমণ্ডল। পৃথিবী সৃষ্টির পর বাইরের অংশ থেকে তাপ চলে যাওয়ায় ভূ-পৃষ্ঠ ঠান্ডা কিন্তু কেন্দ্রের দিক থেকে তাপ বেরিয়ে আসতে না পারায় কেন্দ্রমণ্ডল বেশ উত্তপ্ত। এখানে নিকেল, লোহা, সীসা ইত্যাদি ধাতু উত্তপ্ত অবস্থায় বাইরের দিকের অংশে গলিত এবং ভেতরের অংশে কঠিন অবস্থায় থাকে।
ঘ) P ও Q এর মধ্যে P স্তরটি মাটি গঠন করে। P স্তরটি শিলামণ্ডল নামে পরিচিত। শিলামণ্ডলের উপরের দিকের অংশই ভূ-ত্বক। ভূ-ত্বকের উপরিভাগের বেশির ভাগ অংশ পানিতে ঢাকা এবং বাকি অংশ সাধারণত পাথর, নুড়ি, কাঁকর, বালি, কাদা দ্বারা গঠিত। এদের সাথে মিশে থাকে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের অংশ যাকে হিউমাস বলে। মাটির উপরের দিকে হিউমাস বেশি থাকে। দ্বিতীয় স্তরে হিউমাস কমে আসায় কম কালো বা কিছুটা উজ্জ্বল দেখায়। তৃতীয় স্তর মূলত ক্ষুদ্র শিলাকণা দ্বারা গঠিত। সবশেষে নিচের স্তরটি কেবল শিলাখণ্ড দ্বারা গঠিত।
কঠিন শিলা থেকে নরম মাটি তৈরি হয় ২টি পর্যায়ে। যথা :
১ম পর্যায়: কঠিন শিলা দীর্ঘদিন ধরে রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, ভূমিকম্প ইত্যাদির কারণে ভেঙে ক্ষুদ্রাকার হয়। এছাড়া বিভিন্ন বায়ু, বরফ বা পানির প্রবাহের দ্বারা জায়গা পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্য জায়গায় গিয়ে একসাথে জমা হয়।
২য় পর্যায়: এই ক্ষুদ্র শিলাকণার সাথে পানি, বায়ু, ক্ষুদ্র জীব ব্যাকটেরিয়া, পচা ও মৃত জীবের দেহাবশেষ যোগ হয়ে মাটি তৈরি করে।