সৃজনশীল (CQ)
১. শিল্পপতি জামিল সাহেব তাঁর গার্মেন্টসে কর্মীদের যথাসময়ে উপযুক্ত পারিশ্রমিক পরিশোধ করেন। তিনি কর্মীদেরকে সততার সাথে কাজ করার পাশাপাশি তৈরি পোশাকের গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য কঠোর নির্দেশ দেন। তারপরও এক কর্মী জনাব মাযহার আলী ইচ্ছাকৃতভাবে কাপড় কম দিয়ে পোশাক তৈরি করে এবং বিষয়টি গোপন রাখে। এতে জামিল সাহেবের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে জামিল সাহেব ঐ কর্মীর বেতন বন্ধ করে দেন। এক পর্যায়ে সামান্য বেতনের ঐ কর্মচারীর পরিবারের সমস্যার কথা বুঝতে পারলে জামিল সাহেব ঐ কর্মচারীকে ক্ষমা করে বেতন চালু করে দেন।
- ক) শালীনতা কী?১
- খ) 'যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমার উম্মত নয়'—হাদিসটি ব্যাখ্যা কর।২
- গ) জামিল সাহেবের আচরণে যে গুণটি সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।৩
- ঘ) জনাব মাযহার আলীর কর্মকাণ্ডটি পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।৪
উত্তর দেখুন
ক) শালীনতা হলো একজন ব্যক্তির আচরণ, পোশাক, ভাষা ও চলাফেরায় ভদ্রতা, পরিমিতি এবং সম্মানজনক ব্যবহার প্রদর্শন করা।
খ) 'যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমার উম্মত নয়'—এই হাদিসটি দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতারণার কঠোর নিন্দা করেছেন।
এই হাদিসে বোঝানো হয়েছে যে, প্রতারণা ইসলামি চরিত্রের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। কেউ যদি প্রতারণা করে, তাহলে সে রাসুল (সা.)-এর আদর্শ ও উম্মতের আচরণ থেকে বিচ্যুত। অর্থাৎ, সত্যিকারের মুসলমান কখনও প্রতারণা করতে পারে না। ইসলাম সততা, ন্যায় ও বিশ্বাসযোগ্যতার উপর প্রতিষ্ঠিত, আর প্রতারণা এগুলোর পরিপন্থী একটি গর্হিত কাজ।
গ) জামিল সাহেবের আচরণে যে গুণটি সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে তা হলো ক্ষমাশীলতা।
যদিও কর্মচারী মাযহার আলী ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণা করেছে এবং ব্যবসার ক্ষতির কারণ হয়েছে, তবুও জামিল সাহেব প্রতিশোধপরায়ণ হননি। বরং তিনি কর্মচারীর পারিবারিক কষ্ট বুঝে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং তার বেতন আবার চালু করে দিয়েছেন।
ইসলামে ক্ষমাশীলতা একটি মহান গুণ। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, "তোমরা ক্ষমা করে দাও এবং উপেক্ষা করো, তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন?"— (সূরা নূর: ২২) রাসুল (সা.) নিজেও ছিলেন অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং উম্মতকে ক্ষমাশীল হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। তাই জামিল সাহেবের এই আচরণ ইসলামি নৈতিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এতে তার দয়াশীলতা, সহানুভূতি ও মহানুভবতা প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ) জনাব মাযহার আলীর কর্মকাণ্ডটি প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের শামিল।
মাযহার আলী ইচ্ছাকৃতভাবে কাপড় কম দিয়ে পোশাক তৈরি করেছেন এবং বিষয়টি গোপন রেখেছেন, যা স্পষ্টভাবে অসততা ও প্রতারণার আচরণ। ইসলামে প্রতারণা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন: 'যে প্রতারণা করে, সে আমার উম্মত নয়।'—(সহীহ মুসলিম) এছাড়া কুরআনে বলা হয়েছে: 'তোমরা মাপে পূর্ণ দাও, যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন কর।'—(সূরা আশ-শুআরা: ১৮১-১৮২) মাযহার আলীর এই কাজ কেবল একজন শ্রমিকের দায়িত্ব অবহেলাই নয়, বরং এটি মালিকের প্রতি, প্রতিষ্ঠানের প্রতি এবং সমাজের প্রতি অসততা ও ক্ষতিকর আচরণ। এটি তার পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্বের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন।
সুতরাং পাঠ্যবইয়ের আলোকে মাযহার আলীর এই কর্মকাণ্ডকে ইসলামী আদর্শবিরোধী, নিন্দনীয় ও গর্হিত কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়।