SSC · জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৬: জীবে পরিবহন
আলুর অসমোমিটারের সাহায্যে অভিস্রবণ প্রক্রিয়া প্রদর্শন
🎯 উদ্দেশ্য
আলুর গর্তে চিনির দ্রবণ রেখে পানিতে বসিয়ে দেখানো যে পানি কম ঘন থেকে বেশি ঘন দ্রবণের দিকে যায়।
📖 তত্ত্ব ও সূত্র
অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে দ্রাবক (পানি) কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে। আলুর জীবিত কোষের কোষঝিল্লি এখানে অর্ধভেদ্য পর্দার কাজ করে।
🧰 প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ
- বড় একটি কাঁচা আলু
- ছুরি
- বিকার বা পেট্রিডিশ
- পানি
- ঘন চিনির দ্রবণ
- আলপিন
- স্কেল
🧪 কার্যপদ্ধতি: ধাপে ধাপে
- ১ আলুর খোসা ছাড়িয়ে নিচের দিক সমান করে কাটো, যাতে সোজা বসে।
- ২ ওপর থেকে ছুরি দিয়ে মাঝখানে একটি গর্ত করো (তলা থেকে প্রায় 1 cm রেখে)।
- ৩ গর্তের অর্ধেক পর্যন্ত চিনির দ্রবণ দাও এবং দ্রবণের উচ্চতায় একটি আলপিন গেঁথে দাগ দাও।
- ৪ আলুটি পানিভর্তি বিকারে বসাও, পানি যেন আলুর অর্ধেক পর্যন্ত থাকে।
- ৫ একই রকম আরেকটি আলু গর্তে কিছু না দিয়ে (বা পানি দিয়ে) নিয়ন্ত্রণ হিসেবে রাখো।
- ৬ ৩-৪ ঘণ্টা পর গর্তের দ্রবণের উচ্চতা লক্ষ করো।
⚠️ সতর্কতা
- আলু কাঁচা ও তাজা হবে (সেদ্ধ আলুতে কোষ মরে যায়, অভিস্রবণ হয় না)।
- গর্তের তলা খুব পাতলা বা ফুটো করবে না।
- পানি যেন গর্তে উপচে না পড়ে।
📝 খাতায় যেভাবে লিখবে
নিচের ছক ও হিসাব নমুনা পাঠ দিয়ে করা। নিজের পরীক্ষণে যে পাঠ পাবে সেটাই লিখবে, হিসাবের ধাপ একই থাকবে।
📊 পর্যবেক্ষণ ও উপাত্ত ছক
পর্যবেক্ষণ
| আলু | শুরুতে দ্রবণের তল | ৪ ঘণ্টা পর | সিদ্ধান্ত |
|---|---|---|---|
| চিনির দ্রবণসহ | আলপিনের দাগে | দাগের ওপরে উঠেছে | বাইরের পানি ভেতরে ঢুকেছে |
| নিয়ন্ত্রণ (দ্রবণ নেই) | — | গর্তে তেমন পানি আসেনি | ঘনত্বের পার্থক্য নেই |
✅ ফলাফল
বিকারের পানি আলুর জীবিত কোষের মধ্য দিয়ে গর্তের ঘন চিনির দ্রবণে প্রবেশ করেছে, তাই অভিস্রবণ প্রমাণিত হলো।
✍️ খাতা লেখার ক্রম
- প্রতিটি পরীক্ষণ নতুন পাতায় শুরু করো: ওপরে পরীক্ষণ নং, তারিখ আর পরীক্ষণের নাম।
- ক্রম: পরীক্ষণের নাম → তত্ত্ব ও সূত্র → যন্ত্রপাতি → কার্যপদ্ধতি → পর্যবেক্ষণ ও উপাত্ত ছক → হিসাব → ফলাফল → সতর্কতা।
- ডান পাতায় লেখা, বাম পাতায় পেন্সিলে চিহ্নিত চিত্র আর ছক (অনেক প্রতিষ্ঠানে এভাবেই চায়)।
- ছকের প্রতিটি কলামে একক লেখো, যেমন cm, s, mL।
- ফলাফল এক লাইনে, এককসহ, বক্স করে লেখো।
🎤 ভাইভায় যা জিজ্ঞেস করে
প্রশ্ন শুনে আগে মুখে উত্তর দাও, তারপর উত্তর মিলিয়ে নাও। মক টেস্টে প্রশ্ন পড়ে শোনানো হবে, তুমি বলবে, তোমার কথা লেখা হয়ে উত্তরের সাথে মেলানো হবে।
-
১
অভিস্রবণ কাকে বলে?
উত্তর দেখো
অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্য দিয়ে দ্রাবকের কম ঘন দ্রবণ থেকে বেশি ঘন দ্রবণের দিকে যাওয়াকে অভিস্রবণ বলে।
-
২
ব্যাপন ও অভিস্রবণের পার্থক্য কী?
উত্তর দেখো
ব্যাপনে পর্দা লাগে না এবং দ্রব-দ্রাবক দুটিই চলে; অভিস্রবণে অর্ধভেদ্য পর্দা লাগে এবং শুধু দ্রাবক চলে।
-
৩
সেদ্ধ আলু দিয়ে পরীক্ষা করলে কী হবে?
উত্তর দেখো
কোষ মরে যাওয়ায় পর্দা অর্ধভেদ্য থাকে না, তাই অভিস্রবণ হবে না।
-
৪
উদ্ভিদের জীবনে অভিস্রবণের গুরুত্ব কী?
উত্তর দেখো
মূলরোম দিয়ে মাটি থেকে পানি শোষণ, কোষের রসস্ফীতি বজায় রাখা এবং পত্ররন্ধ্র খোলা-বন্ধ হওয়া।
-
৫
লবণ দিলে শাক নেতিয়ে যায় কেন?
উত্তর দেখো
বাইরের দ্রবণ বেশি ঘন হওয়ায় কোষ থেকে পানি বের হয়ে যায় (বহিঃঅভিস্রবণ)।
✅ নিজেকে যাচাই করো
উত্তর চাপলেই ঠিক-ভুল আর ব্যাখ্যা দেখাবে। 🎤 চেপে মুখে "ক", "খ" বলেও উত্তর দেওয়া যায়।
১. অভিস্রবণে কী চলাচল করে?
২. আলুর অসমোমিটারে অর্ধভেদ্য পর্দার কাজ করে—
৩. লবণে শাক নেতিয়ে যায় কোন প্রক্রিয়ায়?
৪. মূলরোম মাটি থেকে পানি শোষণ করে মূলত—
লগইন করো বা ফ্রি অ্যাকাউন্ট খোলো, তাহলে কুইজের ফল আর কয়েন তোমার অ্যাকাউন্টে জমা থাকবে।
ভার্চুয়াল ল্যাব: আলুর অসমোমিটার
সময় এগিয়ে দেখো পানি কোন দিকে যায়
ল্যাব চালু হচ্ছে…
ছবিটি আসল যন্ত্রের মতো করে আঁকা; প্রতিবার "🔄 নতুন" চাপলে নতুন বস্তু ও নতুন পাঠ আসে। স্কেল বড় করে দেখতে আঙুল দিয়ে ছবিতে চাপো (🔍)।
ক্লাসের বন্ধুদের পাঠাও
শেষ যাচাই: ৬ নভেম্বর ২০২৬। বইয়ের সাথে না মিললে "⚑ ভুল রিপোর্ট" চাপো; যাচাই করে ঠিক করা হবে।